সমাজ অর্থনীতি ও সংস্কৃতি বিষয়ক ত্রৈমাসিক
কালধ্বনি
In Search of a decent living
জীবনের অন্বেষণে
সমাজ অর্থনীতি ও সংস্কৃতি বিষয়ক ত্রৈমাসিক
কালধ্বনি
In Search of a decent living
জীবনের অন্বেষণে
এই কয়েকদিন আগের কথা। একটি প্রদর্শনীতে শৈবাল এবং অন্যান্য চিত্রকরদের আঁকা ছবি দেখলাম। মীনা আর আমি, সঙ্গে আরো কয়েকজন। দেখা শোনা কথা শেষ হলে যথারীতি বাড়ি ফিরলাম। এরপরে যা হয় তাই- ছবি নিয়ে কথাবার্তা। সেও শেষ হওয়ার পর শুনলাম শৈবাল মারা গেছে।
পিছু পানে হাঁপাতে হাঁপাতে ফেরা। কোথায় থামবো ঠিক করতে পারলাম না। পিছন পানে তাকাতে তাকাতে দেখি, দলমা পাহাড়ে আঁকা ওর পঁয়তাল্লিশটি জলরঙ ছবি। গুঁড়ো করা মাটি রঙের তুলিকাকার (দৃশ্যত ও প্রকৃত) সূর্যস্নান সিরিজ। মোটা চওড়া ব্রাশে আঁকা প্রাণ অথবা জীবন! হ্যাঁ জীবনই। হারিয়ে গেছে সে সব আপন বিধিতে।
বস্তু জগতের বাধা নিয়মের মাঝেই ছন্দোবদ্ধ পথ চলা, একে অপরকে পাশ কাটাকাটি। সহজে শৈবাল বলেই দিয়েছেন অন্ধকার ইকুয়াল টু কালো। সর্বত্র প্রবেশ প্রস্থানের দরজা নেই। তবে কি সেখানে আলো পৌঁছায় না! সেখানে কেবলই ধাক্কাধাক্কি গুঁতোগুঁতি! সত্য নয়। সবুর করো, দ্যাখো, আলোর ঝলকানি দেখতে পেয়েছ! এবার চেহারা এক বা একাধিক অথবা তারও বেশি, মনে হয় যেন স্যিলুয়েটি নড়াচড়া। আলো আঁধারের চিরন্তন রতি। প্রণত হবার মধ্যে কোন আলো নেই কালো নেই, যথা রবিকথা, আজ আমার প্রণতি গ্রহণ করো পৃথিবী। সাদা সেলাম কালো সেলাম তাঁকে, যিনি জানেন সন্ধান।
শৈবালের সাংগঠনিক কাজ সম্পর্কে লিখতে বা বলতে গেলে হাঁফ ধরে যাবে। তারচেয়ে বরং থাক তার চিত্রকরতা নিয়ে এই অল্পে বিস্তর কিছু লেখা। তবে তা বিস্তারে অল্প নয়।
শৈবাল তার সব শেষ ছবি ২০২৫- এ আঁকা সম্পর্কে লিখেছে:
‘আমার ছবি প্রতিনিয়ত দর্পণে প্রতিবিম্বিত যেন কেঁপে ওঠা আত্ম- সমর্পণ। তাই ‘নীল উচ্ছ্বাস’ এক সমাবর্তন যেন। কাগুজে সাজগোজের গা বেয়ে আমার সরীসৃপ চাহনি। তোমার অন্তর্বাস ছিঁড়ে ছিঁড়ে যায় আকাশের বজ্রপাতে, দুই প্রজাপতির ডানায়।’
দেবীপ্রসাদ বসু
বুধবার. ২৫ কার্তিক ১৪৩২, ১২ নভেম্বর ২০২৫